Google sites ব্যবহার করে যেভাবে নিজের ওয়েবসাইট তৈরী করবেন

Google sites ব্যবহার করে যেভাবে নিজের ওয়েবসাইট তৈরী করবেন
৩ জানুয়ারী, ২০১৫, রোববার।

শুভ নববর্ষ!

আজকের লেখা আসলে কোনো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর উপর না। নিতান্তই টিউটরিয়াল। কিভাবে Google Sites ব্যবহার করে খুব সহজে নিজের (শিক্ষা-গবেষণা বিষয়ক) ওয়েব সাইট তৈরী করবেন - তার উপর। কেন তৈরী করবেন তার কারণ দুটো ঘটনার গল্প বলে একটু ভুমিকা দিয়েই মূল লেখায় যাব।  

২০০৮ সালের অগাস্টে আমার পিএইচডি শুরুর প্রথম দিন।  জার্মান প্রফেসর-এর সাথে মিটিং।  আমি খুব ভয়ে ভয়ে তাঁর রুমে গেলাম।
আমার বরাবরই মনে হতো (এখনো মনে হয়) আমি আসলে খুবই ভাগ্যবান, ভাগ্যের জোরে চান্স পেয়ে গেছি, পিএইচডি করার কোনো যোগ্যতা আমার নেই।  ভদ্রলোক কী জিগ্যেস করে বসেন, কে জানে!। যাই হোক, দুই- এক কথার পর-ই  কোন ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যচেলর ডিগ্রী নিজে এসেছি জানতে চাইলেন। আমি বলার পর, পরের প্রশ্ন: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর উপর আমাদের কোনো শিক্ষক গবেষণা করেন কীনা।  আমি আমতা আমতা করে জানি না বলতে বলতেই তিনি খট-খট করে গুগলে আমাদের ইউনিভার্সিটি’র নাম লিখে সার্চ দিয়ে দিলেন, আর ফ্যাকাল্টি লিস্ট লিঙ্কে ক্লিক করে বসলেন। আমাদের ওয়েবসাইট-এর দৈন্য দশা দেখে সেদিন আমার খুবই লজ্জা লেগেছিল। এমনিতেই জরসর হয়ে ছিলাম, এই ঘটনায় যেন আরো ছোট হয়ে গেলাম।  

তার কিছুদিন পরের ঘটনা। আমাকে ডেকে বললেন যে UTA -র সার্ভারে আমার নিজস্ব একটা ওয়েবসাইট তৈরী করতে হবে।  সেই ওয়েবসাইট-এর লিংক তাঁকে দিতে হবে।  নিজের ওয়েবসাইট -এ তাঁর বর্তমান ছাত্রদের লিস্টে আমার সেই লিংক দিয়ে দিবেন!! আমার ওয়েবসাইট বানানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই  বলায় বললেন যে তাঁর ওয়েবসাইটের HTML ফাইলটা আমাকে দিয়ে দিবেন, আমি যেন সেটা মডিফাই করে ঠিক করে নেই আর সার্ভারে হোস্ট করি।  ঠেলায় পড়ে ঠিকই ওয়েবসাইট বানালাম, দৌড়াদৌড়ি করে UTA  সার্ভারে হোস্ট করলাম। অনেকদিন পর্যন্ত সেই লিংক তাঁর ওয়েবসাইটে ছিল। এখন পাস করে ফেলায় আমার লিংকড-ইন প্রোফাইল লিংক অ্যালুমনাই  হিসাবে দিয়ে রেখেছেন।  

ঘটনা গুলো বলার কারণ হচ্ছে, আপনাদের বলতে চাচ্ছি, আপনারা হয়তো জানবেনও না যে একজন পিএইচডি ছাত্র হিসাবে, কোনো ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-গবেষক হিসাবে কিংবা ভবিষ্যতে উচ্চতর শিক্ষায় যেতে ইচ্ছুক হলে আপনার একটা ওয়েবসাইট অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।  

এখন মূল ব্যাপারে আসি।  সত্যি কথা হচ্ছে, আমরা বেশির ভাগ লোকই কী করে ওয়েবসাইট বানাতে হয় জানি না।  শিখে বানানোর সময় বা ধৈর্যও আমাদের নেই।  আমরা যেসব জায়গায় কাজ করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা ছাত্র - সেখানে বড়জোড় আমাদের একটা অফিসিয়াল ওয়েবপেজ আছে, কিন্তু তাতে কোনো কনটেন্ট দেয়ার ঝামেলায় আমরা যেতে চাই না।  আর সম্ভবত এইসব চিন্তা করেই গুগল তাদের Google Site চালু করেছে।ওরা ফ্রি -তে আপনার ওয়েবসাইট হোস্ট করে দেয়।  টেম্পলেট (Template) দেয়া আছে, একটা বেছে নিয়ে শুধু টাইপ করে লিখলেই হলো।  আর আপনার কাজের জায়গায় যেই অফিসিয়াল ওয়েবপেজ আছে, তাতে শুধু একটা লাইনে কোড (নিচে দিয়ে দিচ্ছি) লিখে দিলেই, কেউ আপনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিসিট করলে আপনা-আপনি তা রি-ডাইরেক্ট হয়ে Google Site -এ বানানো আপনার অন্য ওয়েবসাইট-এ চলে আসবে।

এখন চলুন, ধাপে ধাপে একটা ওয়েবসাইট হাতেকলমে বানিয়ে ফেলি:

১. আপনার গুগল একাউন্ট -এ লগইন করুন। না থাকলে একটা বানিয়ে নিন, খুব সহজ।

২. লগইন করার পর নিচের মত দেখতে পাবেন। লাল তীর চিহ্নিত বাটনে ক্লিক করুন: 

৩.  প্রথমে ‘More’ এরপর ‘Even More’ লিঙ্কে ক্লিক করে Sites খুঁজে বের করুন:


৪. এর পর Create  বাটন -এ ক্লিক করুন



৫. “Browse the Gallery for more”-এ ক্লিক করুন এবং ‘Schools and Education ‘ ক্যাটাগরি বেছে নিন:


৬,  এরপর ‘Researcher’ টেম্পলেট সার্চ করে সিলেক্ট করুন। আপনি চাইলে অন্য টেম্পলেটও ব্যবহার করতে পারেন :








































৭. আপনার ওয়েবসাইট-র একটা নাম ঠিক করুন, দেখে নিন আপনার ওয়েবসাইটের URL কেমন হবে। এরপর আপনি যে কোনো রোবট নন তা প্রমাণ করার জন্য চেকবক্স -এ চেক করে ক্রিয়েট বাটনে ক্লিক করুন :


























৮. এবার কনটেন্ট ঠিক করার পালা। Settings - বাটনে ক্লিক করে “Edit site layout”-অপশন সিলেক্ট করুন (লাল গোল চিহ্নিত):



৯.  এবার ছবি সহ অন্যান্য ট্যাব গুলোতে একে একে ক্লিক করে এডিট করে নিন। আপনার ছবি দিয়ে দিন। কোনো ট্যাব ডিলিট করতে চাইলে প্রথমে ট্যাবটিতে ক্লিক করুন তারপর নিচের ছবির লাল তীর চিহ্নিত বাটনে ক্লিক করুন।  


১০. যেকোনো পেজ-এর লেখা পরিবর্তন করতে চাইলে, কলম চিহ্নে (এডিট বাটন) ক্লিক করে ঠিক করে নিন।  নতুন পেজ যোগ করতে তার পাশের বাটন -এ ক্লিক করুন। একটু ঘাটাঘাটি করলেই আপনি সব জিনিস বুঝে যাবেন।



১১. সব হয়ে গেলে ‘Share’ বাটনে ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইট পাবলিক করে দিন। আর আপনার নতুন ওয়েবসাইট -এর লিংকটি কপি করে রাখুন, ধরা যাক, আপনার নতুন এই ওয়েবসাইট-এর লিংক হচ্ছে:  “https://sites.google.com/site/mywebsite”

১২. সব শেষে, আপনার অফিসিয়াল ওয়েবপেজ -এর হেডারে শুধু নিচের লাইনটি লিখে দিন । খেয়াল করুন url -এ কিন্তু আপনার নতুন ওয়েবসাইট-এর লিংক দেয়া আছে :

<meta http-equiv="refresh" content="0; url=https://sites.google.com/site/mywebsite/" />

ব্যস, হয়ে গেলো, এখন কেউ আপনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজ ভিসিট করলে তা আপনা-আপনি রিডাইরেক্ট হয়ে আপনার নতুন Google Site -এ তৈরী করা ওয়েবসাইট-এ চলে আসবে।

একটা উদাহরণ দেই, আমার আব্বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ওয়েবসাইট দেখতে নিচের মত:


“Click for Details” - ক্লিক করলেই তা উনার অফিসিয়াল ওয়েবপেজ -এ যাবে। আর যাওয়া মাত্রই (যেহেতু আমি ধাপ ১১-এর মত একটা লাইন ওই ওয়েবপেজ -এ  লিখে রেখেছি) তা রিডাইরেক্ট হয়ে Google Site -এ উনার নিজস্ব ওয়েবসাইট -এ চলে যাবে।


ইন্টারনেট খুব ধীর গতির না হলে আপনি এই রিডাইরেক্ট হওয়া ধরতেই পারবেন না। আপনি নিশ্চই আমার সাথে একমত হবেন যে আব্বার অফিসিয়াল ওয়েবপেজ থেকে তাঁর নিজস্ব ওয়েবপেজ দেখতে অনেক সুন্দর।  

তারচেয়ে বড় কথা, যখন তখন খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট-এ আব্বা তাঁর নতুন কোনো পাবলিকেশন আপডেট, লেখা, নতুন কোনো খবর যোগ করতে পারবেন। আব্বার রিটায়ারমেন্ট বা অবসর -এর পরেও তাঁর এই পেজটি থাকবে (উনি এবছর অবসরে যাচ্ছেন, উনার জন্য দোয়া করবেন, প্লীজ)।

সবশেষে:
আপনার ওয়েবসাইট-এ ভিসিটর কেমন আসছে, কবে তা সর্বোচ্চ ছিল, ইত্যাদি অনেক তথ্য বা পরিসংখ্যান আপনি চাইলেই জানতে পারবেন। এর জন্য আপনি Google Analytics  কিংবা StatCounter ব্যবহার করতে পারেন। Google Analytics ব্যবহার করতে চাইলে এই লিংকে গিয়ে তা সেটআপ করার ধাপগুলো দেখে নিতে পারেন। তবে জেনে রাখা ভালো, সব সেটআপ শেষ করার পরেও আপনার ওয়েবসাইট ট্র্যাক করার জন্য Google Analytics -এর ২৪ ঘন্টা সময় লাগতে পারে।

ধন্যবাদ। - ইশতিয়াক

2 comments:

  1. আমার গুগল একাউন্ট আছে।কিন্তু আপনি যে অপশন গুলো দিয়েছেন সেগুলো কোথায় পাবো তা বুঝতেসিনা।(ফোনে)

    ReplyDelete
  2. Many many thanks

    ReplyDelete

কাজের জায়গায় ভুল থেকে শেখা: regex 'র একটা খুব কমন বিষয় যেটা এতদিন ভুল জানতাম

কাজের জায়গায় ভুল থেকে শেখা: regex 'র একটা খুব কমন বিষয় যেটা এতদিন ভুল জানতাম  ৩ ফেব্রুয়ারি, শনিবার, ২০২৪ রেগুলার এক্সপ্রেশন (Regular Exp...