গুগল টেস্ট অটোমেশন কনফারেন্স ২০১৬, নভেম্বর ১৫-১৬, সানিভেল, ক্যালিফর্নিয়া - প্রথম পর্ব

গুগল টেস্ট অটোমেশন কনফারেন্স ২০১৬, নভেম্বর ১৫-১৬, সানিভেল, ক্যালিফর্নিয়া - প্রথম পর্ব
শুক্রবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৬

গুগল টেস্ট অটোমেশন কনফারেন্স (GTAC) -এর কথা আমি সম্ভবতঃ ২-৩ বছর আগে প্রথম শুনি। ওদের টেস্টিং ব্লগে সাবস্ক্রাইব করার সুবাদে এইবার কনফারেন্সের খবর বেশ আগেই পেয়েছিলাম। এবছর জুন মাসে ওরা অংশগ্রহণে আগ্রহীদের এপ্লিকেশন অনলাইনে জমা নেয়া শুরু করে।  একটা ছোটোখাটো রচনা বা স্টেটমেন্ট -অফ-পারপাস লিখতে হয়েছিল যে আমি কেন অংশগ্রহণ করতে চাই, আর কেনই বা আমাকে তাদের  সুযোগ দেয়া উচিত!

বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, আমাকে সুযোগ দেয়ার কারণ হিসাবে আমি এই ব্লগের কথা লিখেছিলাম। বলেছিলাম যে এই ব্লগে লিখে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সবাইকে জানাতে পারবো। লেখা শুরু করার পর এখন পর্যন্ত যে বেশ কয়েক হাজার বার ব্লগটি বিভিন্ন দেশ থেকে পড়া হয়েছে তাও উল্লেখ করেছিলাম।

এতেই কাজ হয়েছে কিনা জানি না, তবে শুনেছি কিছু ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে প্রথমে বাছাই করে পরে ওরা রেন্ডম সিলেকশন করেছে। এবছর ১৪৭৭ জন এপ্লিকেশন থেকে মাত্র ২০০ জনের বেশি কিছু লোকজনকে ওরা অংশগ্রহণকারী হিসাবে বাছাই করে, তার মধ্যে আমিও ছিলাম।  এজন্য ব্লগের লেখা পড়ার জন্য আপনাদেরও ধন্যবাদ প্রাপ্য - ধন্যবাদ। মূল কনফারেন্সে  প্রায় ২৮ টা  বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১০০ উপরে বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় ২০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছে!

আজকের লেখায় শুধু গুগলের কনফারেন্স আয়োজনের কথা লিখবো। পরের লেখায় কনফারেন্সের বিভিন্ন লেকচার বা টক্-এর কথা লিখবো।

এবছর GTAC -এর এটা ছিল দশম বছর।  গুগল ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে শুধু মাত্র ২০১২ বাদে প্রতি বছর বিভিন্ন জায়গায় এই কনফারেন্সের আয়োজন করেছে। মজার ব্যাপার হলো গুগলার (গুগলে যাঁরা কাজ করে তাঁরা) -দের কাজের ২০% (সপ্তাহে ১ দিন) মূল কাজের বাইরে অন্য সাইড প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ আছে।  অনেকেই হয়তো জানেন, GMail -র শুরুও কিন্ত এইরকম একটা প্রজেক্ট থেকেই।  আর এর অংশ হিসাবেই GTAC -র আয়োজন করে আয়োজক গুগলাররা।

আগের বিভিন্ন বছরের GTAC -এর লোগো



প্রথমেই যে ব্যাপারটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই, তা হচ্ছে, গুগলের সবকিছুতেই একটা গোছানো, চিন্তা করে করা জিনিস - এই ব্যাপারটা থাকে। যেমন, ওদের এবছরের লোগো-র কথাই ধরুন (নিচের ছবিতে)

লোগো 
মানুষজন যেন পরেও এই কনফারেন্সের কথা মনে রাখতে পারে তাই ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেল শহরে হওয়ার কারণে, সানি (রোদ্দুর), ভ্যালি (উপত্যকা) -র সিম্বল লোগোতে আছে। আক্ষরিক অর্থেই সানিভেল ভ্যালিতে গড়ে ওটা রোদ ঝকমকে একটা শহর।

গুগলের চার রঙা (নীল, লাল, হলুদ আর সবুজ) চিহ্ন ব্যবহার করেই লোগোটা তৈরি। আর সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটা - এই কনফারেন্সে সবাই সমান, কে কী ভাবলো চিন্তা না করে সবাই একে অন্যের কাছ থেকে শিখতে  ও আইডিয়া শেয়ার করতে পারবে - এটা বোঝানোর জন্য GTAC - লেখার ভেতর খেয়াল করে দেখুন, পুরোটা জুড়ে সমান (=) চিহ্ন দেয়া আছে!! - কী চমৎকার চিন্তা না?
[অফিসিয়াল ব্যাখ্যা এই লিংকে ]

কনফারেন্সের উপস্থাপক তো শুরুতে বলেই ফেললেন, এখানে সবাই সবাইকে সন্মান করতে হবে।  কারো জাত, রং, ধর্ম, লিঙ্গ ইত্যাদি নিয়ে যেন কোনো বাজে মন্তব্য করা না হয় আর পুরো কনফারেন্স ভিডিও রেকর্ড হচ্ছে, এটা যেন খেয়াল রাখি। সোজা কথায় আমরা যেন কেউ 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' হয়ে  না যাই!!

গোছানো আয়োজনের আরো কয়েকটা উদাহরণ দেই: কনফারেন্সের সূচি সাধারণতঃ আলাদা কাগজে দেয়া হয়, বক্তাদের লিস্টও সেই আলাদা কাগজে থাকে। এখানে ব্যাজের উল্টোদিকেই দেয়া ছিল । কাজেই আলাদা কাগজ সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর ঝামেলা নাই! কার লেকচার কখন, কিসের উপর ব্যাজ উল্টিয়ে দেখে নিলেই হলো।  তার উপর, অংশগ্রহণকারীদের ব্যাজের গলার ফিতা সবুজ রঙের, আয়োজকদেরটা হলুদ আর বক্তাদেরটা নীল রঙের ছিল - কারণ, দূর থেকেও দরকার মতো সবাইকে আলাদা করে যেন চিনে নিতে পারা যায়, তাই এই ব্যবস্থা !

ব্যাজের সামনের দিক 
ব্যাজের পেছনদিক
আগেই বলেছি  পুরো কনফারেন্স লাইভ স্ট্রিম করা হচ্ছিলো। কারো যেন বক্তাদের কথা বুঝতে অসুবিধা না হয়, সেটা কানে কম শোনার জন্যই হোক কিংবা উচ্চারণ না বুঝতে পারার জন্যই হোক -  সে জন্য রিয়েল-টাইমে ক্লোস ক্যাপশনের (কথার লিখিত রূপ) ব্যবস্থা ছিল। আমি যদিও প্রথমে ভেবেছিলাম এটা ভয়েস-টু-টেক্সট অটোমেটিক কোনো সিস্টেম।

ক্লোজ ক্যাপশন বা CC 

কিন্ত আসলে না। দুই-তিন জন চ্যাম্পিয়ন টাইপিস্ট দিয়ে এটা করা হচ্ছিলো। এদের টাইপিং-এর স্পিড, আর কথা বুঝে টাইপ করা দেখে আমি রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছি। কেননা কোনো কোনো  বক্তার উচ্চারণ দুর্বোধ্য হলেও এরা যে কিভাবে তা বুঝে টাইপ করলো- সেটা একটা রহস্য।  অবশ্য এরা গুগলের লোক না।  প্রফেশনাল অডিও-ভিডিও সাপোর্ট দেয়, এমন একটা কোম্পানির লোকজন।

শেষ আরেকটা জিনিস শেয়ার করতে চাই: আমি নিশ্চিত যে আমার মতো আপনিও এইরকম পরিস্থিতিতে পড়েছেন।  কোনো একটা টক্ শেষ হলো, উপস্থাপক জিজ্ঞেস করছেন, কারো কোনো প্রশ্ন আছে কিনা, তখন সবাই চুপ! শেষমেষ, উপস্থাপক নিজেই কোনো একটা ফালতু প্রশ্ন করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। অথবা কেউ প্রশ্ন করলো তো এমন বাজে প্রশ্ন তখন মনে হয় সময় নষ্ট, আরো কত ভালো প্রশ্ন ছিল! অথবা, আপনার মনে একটা প্রশ্ন আছে, কিন্ত কে কী ভাববে, লজ্জায় আর করা হয় না - ঠিক না? এই কনফারেন্সে সেটারও একটা চমৎকার সমাধান শিখে আসলাম।

Sli.do নাম একটা ওয়েবসাইট আছে, যেখানে আপনি ফ্রী-তেই  ইভেন্ট তৈরি করে আপনার কনফারেন্সের জন্য Q&A -এর ব্যবস্থা করতে পারবেন। অডিয়েন্স বা দর্শক-শ্রোতা বক্তার কথা চলার সময়ই (চাইলে পরিচয় গোপন করে) প্রশ্ন করতে পারবেন। কারো প্রশ্ন আপনার ভালো লাগলে 'লাইক' দিয়ে লিস্টের উপরে আর না লাগলে 'ডিসলাইক' দিয়ে নিচে নামিয়ে দিতে পারবেন। বক্তার কথা যখন শেষ, এইবার উপস্থাপক ওয়েবসাইট থেকে লিস্ট টা দেখিয়ে বক্তাকে প্রশ্ন করতে পারবেন। অডিয়েন্সে কারো অন্য প্রশ্ন থাকলে, লিস্ট থেকে একটা প্রশ্ন করে বক্তাকে তার উত্তর দেয়ার সুযোগ করে দিয়ে তার ফাঁকেই মাইক উপস্থাপক অডিয়েন্সে পাঠিয়ে দিতে পারবেন।  দারুণ আইডিয়া না!?


Sli.do  তে করা প্রশ্ন 

যাই হোক, আজকে শুধু গুগলের কনফারেন্সের সেটআপ নিয়ে লিখলাম। পরের পর্বে লেকচার গুলো নিয়ে লিখবো। কনফারেন্সের আরো ছবি দেখতে চাইলে এই লিংকে দেখে আসতে পারেন। এদের ক্যাম্পাসটা খুবই সুন্দর।  আর একটা ছবি শেয়ার না করলেই না - গুগলে কাজ করা আমাদের ব্যাচের ৩ জন - আরিফ, সরফরাজ আর নাঈম । কনফারেন্সে আরিফের সাথে কোনো ছবি নাই, তাই বাকি দুইজনের সাথে তোলা ছবিটাই দিয়ে দিচ্ছি :-)

বাম থেকে - সরফরাজ, আমি আর নাঈম  
ধন্যবাদ,
--ইশতিয়াক




লাঞ্চ এন্ড লার্ন - জাভা ৯

লাঞ্চ এন্ড লার্ন - জাভা ৯ নভেম্বর ১০, শুক্রবার, ২০১৭ আমেরিকাতে আমার কাজের অভিজ্ঞতার মধ্যে এই একটা জিনিস আমার খুব প্রিয় - লাঞ্চ এন্ড লার্...