আমাজন কোম্পানির (আমার কাছে এতদিন) না-জানা কিছু তথ্য

আমাজন কোম্পানির (আমার কাছে এতদিন) না-জানা কিছু তথ্য
বুধবার, ১৭ মে ২০১৭


আমার মনে হয় না আমেরিকা আসার আগে আমি আমাজনের নাম জানতাম বা শুনেছিলাম। বাংলাদেশে আমার ধারণা এখনো অনেকেরই এই কোম্পানির সম্পর্কে তেমন কিছু জানা নেই।  সম্ভবত আমাজনের কোনো সার্ভিস বাংলাদেশে নেই বলেই মানুষজন এখনো তেমনভাবে কোম্পানিটার সম্পর্কে জানে না। অবশ্য আমার ভুল হতে পারে।  ইন্টারনেটের এই যুগে এমন দাবি করাটা বোধহয় বোকামি।  যাই হোক,  এই কয়েকদিনে কোম্পানিটার সম্পর্কে ঘাঁটাঘাঁটি করে কিছু মজার (বিস্ময়কর বললেও কম হবে না) তথ্য জানলাম - সেগুলো শেয়ার করার জন্যই লিখছি।  আগেই বলে নেই: সব তথ্যই উইকিপিডিয়া আর না হয় আমাজনের সিইও জেফ বেজোসের লেখা শেয়ার হোল্ডারদের কাছে বাৎসরিক খোলা চিঠি থেকে নেয়া।



তথ্য ১: প্রথমবারের মতো ১৯৯৫ সালে যখন আমাজনের শেয়ার ছাড়া হয়, তখন শেয়ার প্রতি দাম ছিল মাত্র ১৮ আমেরিকান ডলার, এখন (১৭ মে ২০১৭ তারিখ) প্রতি শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৬৬ ডলার!! প্রায় ৫৪ গুণ বেশি!! আজকের দাম জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন।  ২০১৭ সালের সবচেয়ে ধনীর তালিকায় আমাজনের সিইও জেফ বেজোস এখন তৃতীয়।  প্রথম জন বিল গেটস আর দ্বিতীয় জন ওয়ারেন বাফেট। আমাজনের শেয়ার না কেনাটা তখন স্রেফ বোকামি ছিল বলে স্বীকার করেছেন দ্বিতীয় ধনী ওয়ারেন বাফেট!

তথ্য ২: অনলাইনে বই কেনা-বেচার দোকান হিসাবে আমাজনের শুরু। বর্তমানে বই থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যা আমাজনে কেনা যায় না।  ইলেক্ট্রনিক্স থেকে শুরু করে, হাড়ি-পাতিল, ঔষধ, খেলনা, কসমেটিক্স এমনকি বাচ্চার ডায়াপার সবই কিনতে পারা যায়।  তার তাই, আমাজনের (Amazon) লোগোতে A থেকে Z অর্থাৎ ইংরেজি বর্ণমালার শুরু থেকে শেষ অক্ষর পর্যন্ত একটা তীর চিহ্ন আঁকা আছে - যেটা কিনা আবার দেখতে অনেকটা হাসির মতো লাগে।  সেটাও নাকি আমাজনের কাস্টমারকে খুশি করে দেয়ার প্রতীক! আমাজনের কাস্টমারকে খুশি করার অনেক মজার গল্প চালু আছে।  এমনকি আপেল-র ম্যাকবুক অনলাইনে কেনার পর  ডেলিভারি দিতে দেরি হচ্ছে কেন জিজ্ঞেস করায় এক কাস্টমারকে নাকি আমাজন আরেকটা ম্যাকবুক পাঠিয়ে দিয়েছে!

তথ্য ৩: আমাজন এখন শুধু অনলাইনে জিনিস কেনাবেচার জায়গায় থেমে নেই।  আমাজন এরইমধ্যে নিজেরাই ইলেক্ট্রনিক্স বানানো শুরু করেছে। কিন্ডল ট্যাবলেট, ফায়ার টিভি, একো (বাংলায় যার অর্থ প্রতিধ্বনি। এখানে এরা "একো" বলে, বাংলাদেশে হলে আমরা ইকো উচ্চারণ করতাম) , একো-শো বানানোর পাশাপাশি নেটফ্লিক্স -এর মতো স্ট্রিমিং ভিডিও  বানানো শুরু করেছে।  এসব থেকেও তাদের এখনকার বড় ব্যবসা হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং। হোস্টিং সার্ভিস, ডাটা সেন্টার, কম্পিউটিং মেশিন ভাড়া দেয়ার মতো ক্লাউড কম্পিউটিং -এর মোটামুটি একচেটিয়া ব্যবসা এদের। মাইক্রোসফট, গুগল এখন এই ব্যবসা ধরার চেষ্টা করছে।  বলা হয় আমাজনের AWS সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেলে ইন্টারনেটে অনেক ব্যবসা/ওয়েবসাইটেরই ধস নামবে। নেমেছিলও।  এ বছর ফেব্রূয়ারি মাসে এমনি এক ঘটনায় আমি যেই কোম্পানিতে কাজ করি - এদের অবস্থাও কাহিল হয়ে গিয়েছিলো।

তথ্য ৪: আমাজন শুধু নিজেরা জিনিস বিক্রি করে না।  অন্য বিক্রেতার পণ্যও বিক্রি করে।  এই সিস্টেমকে এরা নাম দিয়েছে মার্কেটপ্লেস - সোজা বাংলায় বাজার বা হাট।  সামান্য ইজারার বিনিময়ে হাটে যেমন যেকোনো ব্যবসায়ী তাঁর পণ্য বিক্রি করতে পারেন, আমাজনেও একই ভাবে যেকেউই তার জিনিস বিক্রি করতে পারবেন। ক্রেতার করা রিভিউ-র উপর যেকোনো বিক্রেতার ভবিষ্যত ব্যবসা নির্ভর করে বলে বিক্রেতারাও খুব ভালো সার্ভিস দেন।  মিথ্যা রিভিউ ঠেকানোর ব্যবস্থাও আমাজনের আছে। আমাজন নিজেদের পণ্যের সাথে অন্যের পণ্যের এই প্রতিযোগিতার সুযোগ দিয়ে ক্রেতার বা তাদের কাস্টোমারদের জন্য পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছে!

তথ্য ৫: আগের তথ্য খুব একটা নতুন না হলেও এর পরের যেই তথ্যটা দিচ্ছি, এটা আমার কাছে সম্পূর্ণই নতুন ছিলো।  বিক্রেতাদের জন্য আমাজন "ফুলফিলমেন্ট বাই আমাজন" সার্ভিস দেয় - সার্ভিসটা হচ্ছে অনেকটা এইরকম: একজন বিক্রেতা তাঁর পণ্য আমাজনের ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে দিয়ে যাবেন - আমাজন সেই পণ্য সংগ্রহ করে রাখা, কোনো ক্রেতার কেনার পর তা প্যাকেট করে পোস্ট করা, ফেরত দিতে চাইলে সেটা নেয়া সহ সব কিছু করবে।  মূল আইডিয়াটা হচ্ছে এতে করে একজন ক্রেতা যখন অনলাইনে একটা আমাজনের পণ্য আর আরেকটা আরেকজন বিক্রেতার পণ্য একসাথে কিনবেন, আমাজন সে দুটো জিনিস একই বক্সে পাঠিয়ে দিবে - এভাবে পোস্টিং এর খরচ কমবে!! তার উপর এইসব পণ্য আমাজন প্রাইম (বাৎসরিক ফী-র বিনিময়ে ফ্রিতে ২ দিনে ডেলিভারি সার্ভিস) এলিজিবল হবে।  প্রাইম মেম্বাররা এতে করে ২ দিনেই তাঁদের কাঙ্খিত পণ্য পেয়ে যাবেন! - আইডিয়াটা দারুণ না? ২০১৪ সালের করা এক সার্ভেতে দেখা গেছে যে এই সার্ভিস নিয়েছেন এমন ৭১% বিক্রেতার বিক্রি ২০% বেড়ে গেছে!!

তথ্য ৬:  নিজেদের জিনিস, তার উপর আবার বিক্রেতাদের জিনিস - এই বিশাল সংখ্যক পণ্যের মজুদ প্রক্রিয়া, আর অর্ডার পেলে তা বের করে এনে প্যাকেট করে পোস্ট করা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাজন ২০১২ সালে কিভা নামের একটা রোবোটিক্স কোম্পানি কিনে নিয়ে এখন নিজেরাই রোবটের সাহায্যে পণ্য মজুদ, বের করে আনা ইত্যাদি কাজ অটোমেটিকালি করে! অবশ্যই মানুষের তত্ত্বাবধানে।  ইউটুবে এই ভিডিওটা তাই দেখার মতো।

এরকম আরো অনেক তথ্য আছে।  আজকে আর লিখছি না। পরে সময় পেলে আরেকদিন লিখবো। আজকের লেখার জন্য শেষ তথ্যটা দিয়ে ঘুমাতে যাই:

তথ্য ৭: শেয়ার হোল্ডারদের কাছে বাৎসরিক খোলা চিঠিতে আমাজন সিইও জেফ বেজোস সবসময় ১৯৯৭ সালের লেখা প্রথম চিঠি জুড়ে দেন।  আর মনে করিয়ে দেন, আমাজনের দিকনির্দেশনা বা এপ্রোচ এখনো ডে -১ বা প্রথম দিনের মতোই আছে! এবছরের জন্য লেখা চিঠিতে তিনি আবার ডে-২ - কোম্পানির চেহারা কেমন হয়, আর কেনই বা তিনি মনে করেন যে আমাজন এখনো ডে-১ কোম্পানি আছে সেটা লিখেছেন। সময় হলে পড়ে নেবেন - বেশ ইন্টারেস্টিং লেখা

আরেকটা তথ্য দেই: এটা অবশ্য নেগেটিভ তথ্য। আমাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও কম না। বিশেষ করে আমাজনে কাজ করে এমন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার/ডেভেলপার/টেস্ট ইঞ্জিনিয়ারদের মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ, প্রমোশন না হলে গ্রিনকার্ড করতে দেরি করা ইত্যাদি অনেক অভিযোগ আছে। আপনার যদি আমাজন সম্পর্কে এরকম ভালো/মন্দ তথ্য জানা থাকে, কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ।

ধন্যবাদ
--ইশতিয়াক

লাঞ্চ এন্ড লার্ন - জাভা ৯

লাঞ্চ এন্ড লার্ন - জাভা ৯ নভেম্বর ১০, শুক্রবার, ২০১৭ আমেরিকাতে আমার কাজের অভিজ্ঞতার মধ্যে এই একটা জিনিস আমার খুব প্রিয় - লাঞ্চ এন্ড লার্...